Gogol Ghoshal

Foodie. Writer turned Storyteller. Aspiring globetrotter.

জন্মদিনের ছড়া

এগারোটার মধ্যরাত

ছাড়ব চিঠি অকস্মাৎ।

চমকে যাবে বন্ধু মোর

লাগবে মুখে খুশীর ঘোর।

সাত সাগরের এই পাড়েতে

লিখছি ছড়া রাতবিরেতে।

অন্ত্যমিলের চাপটা এই,

জালিয়াতির স্কোপ্‌-টি নেই।

আর কী লিখি ভাবতে বসি

লিস্টি করে হিসেব কষি।

শব্দগুলোর পিছন দেখে

(আরও) শব্দ খুঁজি মিলটি রেখে।

রইল বাকি লাইন গড়া

তবেই গিয়ে “বন্‌বে” ছড়া।

আজি শুভ্র মেঘ ওই নীলাকাশে…

ধুর! ছড়া কি আর আমার আসে?

মাথার ঘাম ফেলছি পায়ে

একান্তই নিরুপায়!

ঘামও তো ছাই হচ্ছেনা ঠিক

আর্দ্রতাটা প্রব্লেমেটিক্‌।

কলকাতাতে ঘামত হেসে

বালতি বালতি এক নিমেষে।

শুষ্কতাকে করতে বিদায়

যন্ত্রবিশেষ হল সহায়।

এনেছিনু শীতের কালে,

নয়তো কাপড় “স্ট্যাটিক্‌” মারে।

হিউমিডিফায়ার নাম্নী সে

খুবই কাজের, লক্ষ্মী মেয়ে।

অবশেষে তার প্রয়াসে

(ঘরে) “সঅনা”-সম ফিল্‌-টি আসে।

এইবারেতে কায়িক শ্রমে

ঘেমে ঘেমে উঠব ক্রমে।

কিন্তু ভাবি, করবটা কী?

(এখন) কুদ্রুংগি-র বয়স নাকি?

হঠাৎ করে পড়ল মনে

(দেখে) বক্সিং গ্লাভস তাকের কোনে।

সাভাত ক্লাসে দুদিন ধরে

ঝরছে ঘাম প্রবল জোরে।

সেথায় যেরুপ বক্সো লড়ি,

নাহয় তারই মক্সো করি?

যেমন ভাবা, কাজও তাই

ঘরকে বানাই রিং-এর ভাই।

রুমমেট তো অবাক ভীষণ

ভাবে বুঝি মাইক টাইসন!

বোঝাই তাকে কেমনি করে?

ছড়া কি ভাই হাওয়ায় ওড়ে?

তা এর’মভাবেই ঘন্টাখানেক

ঘুঁষিয়ে বাতাস, ক্লান্ত অনেক।

এমন সময়ে, আয়না দেখায়

ঘামছে কপাল ফোঁটায় ফোঁটায়!

খুশীর চোটে, হুররে বলে

ঝাঁকাই মাথা নাচের তালে।

কিন্তু একি! মন্দ কপাল

লক্ষ্যভেদে বড্ড বেতাল!

পড়বে ঘাম পায়ের পাতায়,

লিখব ছড়া জাব্দা খাতায়

- সেই প্ল্যানেতে পড়ল জল

দুঃখ কি আর বলব বল!

শব্দমিল-এর সেই তালিকা

ঘামের ফোঁটায় ধেবড়ে কাদা!

(কত) কষ্ট করে লিস্টি ফাঁদা,

রিপিট্‌ কি আর হয়রে দাদা!

ডাল-এর সাথে খাল-এর মিল,

ঝিল-এর সাথে মারছি কিল

- এমনই সব মহান রাইম্‌

(আমায়) পদ্যমাঝে করত কায়েম।

এখন সেসব ব্যর্থ আশা

কপাল আমার সর্বনাশা।

ভাগ্য তোরও বলিহারি

গিফট্‌-টা পেলি মিডিওকার-ই।

যাগগে, বরং থাক সে কথা

ছিঁচকাদুনে বাতুলতা।

দিনটা তোর আজ কাটুক ভালো

বাঁচিস যেন হাজার সালও!

বন্ধু, তোকে জন্মদিনে

দিলাম এটা - রাখিস মনে।


Archive